বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশের গান তিনি অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সংগীত ক্যারিয়ার পেরিয়ে তিনি এখনো ব্যস্ত গান নিয়ে। ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, এই গায়িকা দীর্ঘ বিরতির পর স্টেজ শোতে ফিরছেন। এখন এই শিল্পী যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। তবে ছুটি কাটাতে নয়, দর্শকদের সরাসরি গান শোনাতেই তার এই যাত্রা। অর্থাৎ নিউ ইয়র্কেও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করবেন তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন গতকাল নিউ ইয়র্ক পৌঁছান। করোনার কারণে গত দুই বছর কোনো শো করেননি দেশবরেণ্য এই শিল্পী। দেশের বাইরেও যাননি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসাতেই ছিলেন। করোনা পরিস্থিতির যখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তখন মঞ্চে ফিরছেন। ৪ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তিনি। যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এর মধ্যে অনেকগুলো স্টেজ শোর প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু করোনাকালে কোনো শো করতে চাইনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে শো করব না বলে পণ করেছিলাম। এখন করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তাই শো করতে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছি। ডিসেম্বরের ৫ তারিখ দেশে ফিরব। আশা করছি, এক মাসে বেশ কয়েকটি শোতে অংশ নিতে পারব।’
করোনাকালে বাইরে গানের ব্যস্ততা কম থাকলেও ঘরে ঠিকই নানা ধরনের ব্যস্ততা ছিল তার। তিনি বলেন, ‘নিয়ম করে রেয়াজ করেছি। নানা ধরনের গান শোনা ও গানের চর্চা চালিয়ে গিয়েছি। কারণ শিল্পীর কণ্ঠ চর্চা ছাড়া শাণিত হয় না। যত বেশি চর্চা করা যায়, ততই কণ্ঠ ফ্রেশ হয়। লকডাউনে আমি সে কাজটির দিকেই মন দিয়েছি। তাই এখন নতুন উদ্যমে দর্শকের সামনে যাচ্ছি। আশা করছি সব সময়ের মতো এবারও গান দিয়ে দর্শকহৃদয় স্পর্শ করতে পারব।’
শুধু গানের চর্চাই নয়, ঘরে বসে প্রয়াত চিত্রনায়িকা কবরী পরিচালিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির সংগীত পরিচালনার কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। বন্ধুর মৃত্যুতে সেই কাজ সবটাই এলোমেলো হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রিয় অভিনেত্রীর অকাল প্রয়াণে ছবির কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ছবির তিনটি গানের কাজ শেষ করেছি। আরও একটি বাকি আছে। সেটা কবে হবে, তা এখনই বলতে পারছি না। শুনেছি কবরীর এক ছেলে চলচ্চিত্রের ওপর পড়াশোনা করেছে। সে মায়ের শেষ সিনেমাটির দায়িত্ব নেবে। তাহলে এই ছবির কাজ আবারও শুরু হবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কবরীর ছেলের সঙ্গে আমার এখনো আলোচনা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কবরীকে সত্যি খুব মিস করি। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব প্রায় চল্লিশ বছরের। “এই তুমি সেই তুমি” ছবিতে তার অনুরোধেই কাজ করেছি। ছবির প্রথম গানটিও আমি গেয়েছি। গান শুনে খুব খুশি হয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল সে। একদিন কবরী “তুমি সত্যি করে বলো” গানটি পাঠিয়ে বলল, “একটি গান পাঠিয়েছি। গানটি নতুন এক গীতিকার লিখেছে। কেমন হয় দেখো তো।” এরপর আবারও বলল, “গানটিকে তুমি এক শতে কত দেবে?” আমি বললাম, “৭০।” কবরীর উত্তর, “তাই।” বললাম, “গানটি নিয়ে তুমি এত উচ্ছ্বসিত কেন?” সে জানাল, গানটি তার লেখা। বললাম, তোমার এত গুণ তা জানতাম না। ভালো হয়েছে। আগে বলোনি। তুমি লিখেছ জানলে ১০০তে ১০০ দিতাম [হাসি]।’
সংগীতজগতের গুণী মানুষেরা একের পর এক চলে যাচ্ছেন। এ শূন্যতা আপনাকে কতটা ভাবায়? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুবই কষ্ট পাই। আলাউদ্দিন আলী, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, এন্ড্রু কিশোরসহ অনেক কাছের প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়েছি। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।’ আপনার জীবনে প্রাপ্তি অনেক। সারা বিশে^র অগণিত শ্রোতার ভালোবাসার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা পেয়েছেন। এক জীবনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে। তাই তো তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি নেই।’